ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশনে পুলিশের সতর্কতা

বাংলাদেশ পুলিশ সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হওয়া হত্যা মামলায় আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে তথ্য পাঠিয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক। আদালতের নির্দেশে সালমান শাহ হত্যা মামলা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, “এতে ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”


মামলার ১১ আসামির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাইরে থাকতে পারেন। দেশে থাকা আসামিদের শনাক্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আসামিরা যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য তাদের নামসহ তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”


উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্তযাত্রা, যা প্রায় তিন দশক ধরে অপমৃত্যু মামলা হিসেবেই চলতে থাকে। পরবর্তীসময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দেয়। তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই ওই প্রতিবেদন মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং দাবি করে আসেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।


এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে রমনা থানার ওসি বলেন, “মামলার তদন্তে কোনো ধরনের চাপ নেই। শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”


এরআগে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত ২১ অক্টোবর মধ্যরাতে রাজধানীর রমনা থানায় ওই হত্যা মামলা করা হয়। মামলার বাদী তার মামা আলমগীর কুমকুম।


এজাহারে আসামি হিসেবে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। মোট ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page